গুগলে ইন্টার্নশিপ কিভাবে করবেন?

বর্তমান প্রযুক্তির এই বিশ্বে গুগলের নাম শোনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া প্রায় দুস্কর । প্রতিদিনের কাজের বিভিন্ন তথ্যগুলো আমরা সহজেই পেয়ে যায় গুগলের মাধ্যমে। সকল শিক্ষার্থীর কাছে এটি যেন স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান। কেমন হবে যদি আপনি গুগলে ইন্টার্নশীপ করার সুযোগ পেয়ে যান !

 



চলুন জেনে নেয়া যাক এই ইন্টার্ন এর অফার কিভাবে পাবেন বা গুগল ইন্টার্নশিপে কিভাবে আবেদন করবেন –

 

প্রথমেই জেনে নেই গুগল এর ইন্টার্নশিপ টা আসলে কি?

বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি বা সফটওয়্যার কোম্পানি ( যেমন : গুগল, মাইক্রোসফট, আমাজন, ফেইসবুক ইত্যাদি ) ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিয়ে থাকে। শুধুমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিংইই না বরং অন্যান্য সেক্টর যেমন –  বিজনেস সেক্টরসহ বিভিন্ন সেক্টর এর শিক্ষার্থীরাও এই সুযোগ পেতে পারে। এক্ষেত্রে আন্ডারগ্রাজুয়েট, পোস্ট গ্রাজুয়েট এমনকি Ph. D হোল্ডার রাও এই ধরণের ইন্টার্নশীপের সুযোগ পেয়ে থাকে। সারাবিশ্বের সবার জন্য এই ইন্টার্নশিপের সুযোগ থাকে আর অবশ্যই এটা অনেক বড় সুযোগ সবার জন্য। কোম্পানি ভেদে সারা বছর ইন্টার্নি করার সুযোগ থাকে বছরে দুইবার কিংবা তিনবার। সর্বোচ্চ ৬০০০ ডলার থেকে সর্বনিম্ন ৩০০০ ডলার বৃত্তি পাবার সুযোগ থাকে। 

সাধারণত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ইন্টার্নি এর অফার দিয়ে থাকে গুগল  –

 

  • Software Engineering Internship : এই ফিল্ডে ইন্টার্নশীপের জন্য আপনাকে অবশ্যই কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে পড়াশুনো করতে হবে বা এই সাবজেক্ট রিলেটেড ফিল্ডে, প্রজেক্টে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কম্পিউটার অ্যালগোরিদম, বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ যেমন C, C++, Python, Java, HTML, JS, Oracle, SQL, MongoDB ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। অর্থাৎ কম্পিউটারের সফটওয়্যার সিস্টেম সম্পর্কে বিশদ এবং সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকাটা জরুরি।

 

  • STEP (Summer Trainee Engineering Program) : মূলত কম্পিউটার সাইন্স পড়ুয়া আন্ডারগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীরা এই ফিল্ডে আবেদন করতে পারেন।

 

  • User Experience Internship : গ্রাফিক্স ডিজাইনে BA/BS পড়ুয়া শিক্ষার্থী, কম্পিউটার সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ড বা Human-Computer Interaction (HCI) নিয়ে কাজ করা শিক্ষার্থীরা এই ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারবেন।
  • Associate Product Manager Internship : এই ফিল্ডে ইন্টার্নশীপের জন্য কম্পিউটার সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের আন্ডারগ্রাজুয়েট, পোস্টগ্রাজুয়েট এবং Ph. D ডিগ্রী সম্পন্ন শিক্ষার্থীরাই বেশি গুরুত্ব পাবেন।

 

  • Mechanical Engineering Internship : মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ডের যেকোনো শিক্ষার্থী অর্থ্যাৎ আন্ডারগ্রাজুয়েট, পোস্টগ্রাজুয়েট কিংবা Ph. D হোল্ডাররা এই ক্যাটাগরিতে ইন্টার্নশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

 

  • Hardware Engineering Internship : এই ক্যাটাগরির ইন্টার্নশীপটি মূলত ইলেকট্রিকাল এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর শিক্ষার্থীদের জন্য।

 

  • Engineering Practicum : আন্ডারগ্রাজুয়েট ১ম ও ২য় বর্ষের কম্পিউটার সাইন্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এই ফিল্ডে আবেদন করতে পারবেন।

 

 এছাড়াও Business Internships এর বিভিন্ন ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে –

  • BOLD Internship: BA (Bachelor of Arts) / BS (Bachelor of Science) পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এক্ষেত্রে আবেদন করতে পারেন।

 

  • Legal Internship : Law Degree তে আন্ডারগ্রাজুয়েট বা পোস্টগ্রাজুয়েটরা এই ক্যাটাগরিতে গ্রহণযোগ্যতা পাবেন।

 

  • Career: Digital Advertising, Marketing, Project Management, Sales or Service Delivery এসব বিষয়ে নূন্যতম ৪ বছরের অভিজ্ঞরা আবেদন করতে পারেন।

 

  • MBA Internship : যারা MBA পড়ুয়া শিক্ষার্থী তারা এই ফিল্ডে ইন্টার্নশীপ এর আবেদন করতে পারেন।

 



বিভিন্ন ক্যাটাগরির উপর ভিত্তি করে গুগলের ইন্টার্নশীপ প্রোগ্রামটি ৩ থেকে ৬ মাস সময়ের মধ্যে হয়ে থাকে। এই ইন্টার্নশীপের জন্য অবশ্যই আপনাকে কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে খুব ভালো জ্ঞান থাকতে হবে বা এই রিলেটেড ফিল্ডে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে ভয় পাবার কোনো কারণ নেই, আপনাকে যে এই সাবজেক্টের সব জানতে হবে তা নয় তবে খুব ভালো ভাবে কিছু টপিকের (যেমন বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ডাটাবেস, নেটওয়ার্কিং, কনটেস্ট প্রোগ্রামিং, ডাটা স্টাকচার ) বেসিক কনসেপ্ট থাকতে হবে। প্রতিবছর ৫০হাজার – ১ লাখ এর বেশী মানুষ ইন্টার্নি এর জন্য আবেদন করে থাকে তার মধ্যে থেকে সব ক্যাটাগরি মিলিয়ে ১৫,০০০++ জন এরও বেশী মানুষকে সিলেক্ট করা হয়। তারমানে ইন্টার্নির সুযোগ অনেক বেশি থাকে।

 

এবার আসি কিভাবে গুগলের ইন্টার্নশীপের জন্য আবেদন করবেন –

 

  •  CV : অনলাইন এ আবেদন করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন, আপনার সিভি, অন্যান্য ডকুমেন্ট এবং সেই সাথে কভার লেটার যেন তথ্যবহুল হয়। আপনার প্রাথমিক আবেদন যাচাই করার পর, যদি তাদের ভালো লাগে তাহলে আপনাকে তারা মেইল করে আপনার সাথে প্রাথমিক ইন্টারভিউতে বসবে। আর এই জন্য প্রথমেই আপনার CV বা Resume টা অবশ্যই ভালোভাবে বানাতে হবে।

 

  • Interview : আপনার CV পছন্দ হলে তারা গুগল হ্যাংআউটস বা ফোন কলের মাধ্যমে আপনার সাথে প্রাথমিক কথা বার্তা বলবে, আপনার স্কিল সমন্ধে তাদের ধারণা ক্লিয়ার করবে। গুগল ডকে ছোটোখাটো কোড ইমপ্লিমেন্টেশনও করতে হতে পারে। এছাড়াও আপনার বিভিন্ন দক্ষতা যেমন, লিডারশিপ স্কিল, cognitive ability সম্পর্কেও তারা প্রশ্ন করতে পারে।

 

  • Onsite Challenge : এরপর যদি আপনার স্কিল সম্মন্ধে তারা সন্তুষ্ট হয়, আপনাকে তাদের ভালো লাগে তাহলে আপনার সাথে কথা বলে, তারা একটা অনলাইন প্রোগ্রামিং কনটেস্ট এর আয়োজন করবে। এই কনটেস্ট মূলত ব্যক্তিভেদে বিভিন্ন হতে পারে তবে সচরাচর ৮৫% মানুষ এর জন্য তারা গুগল অনলাইন চ্যালেঞ্জ দিয়ে থাকে । এই অনলাইন চ্যালেঞ্জে তারা আপনাকে দুইটা প্রশ্ন বা দুইটা কোড দিবে। প্রতিটা কোড এর সময় থাকবে ৩০ মিনিট করে, তারমানে আপনাকে ১ ঘন্টার মধ্যে প্রব্লেমটা সল্ভ করে দিতে হবে। এই ধরণের Case-based প্রব্লেম Hackerearth প্লাটফরম এ সাধারণত হয়ে থাকে। সাধারণত আপনাকে তারা Array, Dp, Recursion, Trees, String Manipulation, Data Structure, Discrete Mathematics এবং  এই রিলেটেড নানা ধরনের প্রশ্ন করতে পারে।




যদি এই ধাপে আপনি সাকসেসফুল হন, তাহলে তারা আর একবার আপনার সাথে আলোচনায় বসবে এবং আপনাকে ইন্টার্নশিপের এর অফার দিবে ! অবশ্যই এটা আপনার জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়। আপনি গুগলের অফিসেই অন্যান্য “গুগলার”- দের সাথে ইন্টার্নশিপ করবেন, তাদের সাথেই কাজ করবেন। নিশ্চয় অন্যরকমের একটা অভিজ্ঞতা আপনার সঞ্চার হবে। যেহেতু এটিও এক ধরনের জব তাই প্রতিমাসেই আপনি টাকা পাবেন আর ভালো ইন্টার্নি করলে, আপনার আন্ডারস্ট্যান্ডিং লেভেলের উপর ভিত্তি করে তারা আপনাকে ইন্টার্নশিপ শেষ হলে পার্মানেন্ট জবও অফার করতে পারে।

 

তাই ইন্টার্নশীপের এই সুযোগ হারাতে না চাইলে উপরোক্ত যোগ্যতা অনুযায়ী পছন্দের ক্যাটাগরিতে এখনই অ্যাপ্লিকেশন করে ফেলুন। আপনাদের সুবিধার জন্য আবেদনের লিংকটা এখানে দিয়ে দেয়া হলো – https://careers.google.com/students/

আপনাদের সকলের গুগল যাত্রা শুভ হোক !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *