গবেষণার শুরু থেকে শেষ

স্নাতক ও স্নাতক-পরবর্তী শিক্ষার্থীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গবেষণা। বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা একদিকে যেমন উচ্চশিক্ষার সুযোগের বিস্তার ঘটায়  তেমনি কর্মজীবনেও দারুন ভূমিকা রাখে। গবেষণা বা Research এর মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে বাস্তবিক কোনো সমস্যার সমাধান করা। অনুসন্ধান, তথ্য, যথার্থ উপায়ে সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়াই হলো গবেষকের মূল কাজ।


কিছু বিষয়কে সামনে রেখে গবেষণার কাজ করা হয়। গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো –

  • বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা
  • প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা করা
  • গবেষণার সমস্যা নির্দিষ্টকরণ
  • অনুমিত সিদ্ধান্ত নেয়া
  • তথ্য সংগ্রহ করা ও বিশ্লেষণ করা 
  • সমাধান ও সিদ্ধান্ত প্রদান
  • প্রতিবেদন তৈরী

মূলত এই ধাপসমূহ গবেষণার কাজ সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আরো কিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি –

1.বিষয় নির্ধারণ : গবেষণার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা বেশ কঠিন হলেও তা উন্মুক্ত। কেননা গবেষণার দুনিয়া সীমাহীন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়ে পড়ছেন অথবা অন্য আগ্রহের যেকোনো বিষয় নিয়েই গবেষণা করা সম্ভব। তবে সেই বিষয়ে কাজের সুযোগ-সুবিধা, ক্ষেত্র কেমন তা জানতে হবে। মূলত আপনার পছন্দের বিষয় ও কাজের সুযোগ এই দুইকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয় নির্ধারণ করা জরুরি।


 

2.গবেষণার কাজ কখন শুরু করবো : যেহেতু অনেক বিস্তৃত বিষয়, তাই স্নাতক পর্যায় থেকেই এর কাজ শুরু করা উচিত। বিবিধ বিষয় নিয়ে এই সময় থেকেই পড়াশোনা শুরু করলে ভবিষ্যতে গবেষণার বিষয়, ক্ষেত্র নিয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকবে, কাজ সহজ হবে। বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ আর্টিকেল পেপার সম্পর্কে আরো বিস্তৃত ধারণা দিতে পারে।

 

3.জার্নাল পেপার ডাউনলোড : বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে রিসার্চ টপিক এর নাম সার্চ করে সরাসরি আপনি এর Pdf ডাউনলোড করে নিতে পারেন। যদিও সকল ওয়েবসাইট এক্ষেত্রে অনুমতি দেয়না। তাই বিভিন্ন সময়ের জার্নাল পেপার খুঁজতে ও ডাউনলোড করতে Google Scholar, Sci-Hub প্রভৃতি হলো বহুল ব্যবহৃত সাইটসমূহ।

 

4.Paper Structure : থিসিস লেখার ধাপ, পদ্ধতি, নিয়ম মূলত Research Methodology এর অন্তর্ভুক্ত। ধাপ সমূহ হলো –

  • Abstract : সম্পূর্ণ থিসিস এর রেজাল্ট সংক্ষেপে ১০-১৫ লাইন এর মধ্যে লিখে একটা ধারণা দিতে হয় এই অংশে।
  • Introduction : থিসিসের বিষয়ে পূর্বের বিভিন্ন paper, ডেটা, সুবিধা-অসুবিধা এই অংশে বিশদ তুলে ধরা হয়।
  • Literature – review / Lit-review : থিসিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো Lit-review পার্ট। কাজের জন্য ব্যবহৃত পূর্বের সকল paper রেফারেন্স সহ এখানে উল্লেখ করতে হয়। এই অংশে ভালো ধারণা রাখতে বিষয়-সংক্রান্ত যত paper পড়া যাবে ততই ধারণা পরিষ্কার হবে।
  • Methodology : পেপারের সকল কাজ, তথ্য,কি কি Software, equipments ব্যবহার হলো সব Process + Materials এখানে বিশদে আলোচনা করা হয়।
  • Results : যাবতীয় কাজের পর পাওয়া ডেটা, পরিসংখ্যান, ছক, ফলাফল এই অংশে উল্লেখ করা হয়।
  • Discussion : এখানে আপনার পাওয়া ফলাফলের সাথে পূর্বের বিভিন্ন পেপারের ফলাফলের তুলনা, কেন এই বিষয়ের সমাধান  এভাবে করা হলো, ইত্যাদি এখানে উল্লেখ করতে হবে।
  • Conclusion : পুরো থিসিসের সামারি, পেপারের লিমিটেশন, রিকমেন্ডেশন প্রভৃতি এই অংশের কাজ।
  • References : পূর্বের বিভিন্ন সালের পেপারকে, উইকিপিডিয়া থেকে কোনো ডেটা এখানে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করলে তা উল্লেখ করতে হয়।



5.Citation Tools : Research পেপারে প্রয়োনজনীয় রেফারেন্স উল্লেখ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোন author এর পেপার থেকে সেই তথ্য নেয়া হয়েছে তা অবশ্যই বলে দিতে হবে। Citation tools এর মাধ্যমে এই কাজটিই করা হয়। বহুল ব্যবহৃত কিছু টুলস হলো Mendeley, EndNote, EasyBib.com, Zotero ইত্যাদি।

 

6.Citation Styles : Citation Tools ব্যবহার করে রেফারেন্স লেখার সময় কিছু নির্দিষ্ট স্টাইল ফলো করা হয়। গবেষণার ক্ষেত্র বিশেষে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্টাইল ফলো করে যেমন – MLA (Modern Language Association), APA (American Psychological Association), IEEE স্টাইল ইত্যাদি।

 

7.প্লেজিয়ারিজম : পেপারে কখনোই কিছু নকল করা যাবে না, পূর্বের পেপার থেকে ডেটা, ফলাফল কাজে নিয়ে কাজ করার পর অবশ্যই তার রেফারেন্স বলে দিতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *