ডেভেলপারের ধরনভেদ

প্রযুক্তি নির্ভর যুগে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ডেভেলপমেন্ট সেক্টরের বিকাশ ঘটছে। ইন্টারনেটর ব্যবহার সৃষ্টি করেছে নানা ধরণের ” Specialized Field of Development ” যা হয়তো কয়েক বছর আগেও ছিলোনা। সফটওয়্যার ফার্ম থেকে শুরু করে প্রায় সব ফিল্ডয়েই দক্ষ ডেভেলপারদের কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে।


ডেভেলপমেন্ট সেক্টর ও কাজের ক্ষেত্র নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করছি এই ব্লগে –

১. Mobile Developer :

এন্ড্রোয়েড, আইফোনের বিভিন্ন ফিচারস তৈরী, প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী অ্যাপ্লিকেশন তৈরী, ব্যবহারকারীদের জন্য কার্যকরী বিভিন্ন app এর ডেভেলপমেন্ট করাই তাদের কাজ। নানা ফ্রেমওয়ার্ক, প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ, ডিজাইনয়ের মাধ্যমে তারা কাজ করে থাকে। এজন্য Python, Perl, Java, Swift, API, Backend Web Services Knowledge সহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্ল্যাটফর্ম যেমন- Android Studio, Flutter, Firebase, XCode, Xamarin ইত্যাদিতে দক্ষ হওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও বিভিন্ন টার্ম যেমন, SDK, SAAS, UI, UX, App testing বিষয়ে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

২. Web Developer :

বিভিন্ন ওয়েবসাইট তৈরী ও এর ডিজাইন ডেভেলপমেন্টয়ের কাজ করে থাকে ওয়েব ডেভেলপাররা। ওয়েবসাইটের বিভিন্ন টেকনিক্যাল ফিচারস তৈরী, ট্রাফিকিং বাড়ানো ও ক্লায়েন্টের পছন্দমত তারা কোনো সাইট ডেভেলপ করে থাকে। ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে HTML, CSS, SEO, JS, Responsive design skills, Back-end basics, Testing and Debugging skills, Database, Analytical Skills প্রভৃতি নিয়ে ধারণা থাকতে হবে।

৩. Graphics Developer :

বর্তমান সময়ের অন্যমত এবং বেশ ডিমান্ডিং একটা সেক্টর হলো গ্রাফিক্স ডিজাইন। ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন, লোগো ডিজাইন, বিজনেস কার্ড তৈরী, বই বা ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ ডিজাইনসহ অনেক ক্ষেত্রে এই ফিল্ডের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ফ্রীল্যান্সিয়িং এর বাজারেও গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের বেশ ভূমিকা আছে। এই ফিল্ডে ক্যারিয়ার গড়তে বিভিন্ন টেকনিক্যাল স্কিলের পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজাইন সফটওয়্যার সম্বন্ধে ভালো জ্ঞান থাকা উচিত যেমন- Adobe Photoshop, Adobe Illustrator, InDesign, Dreamweaver ইত্যাদি।

৪. Front-end Developer :

একে ক্লায়েন্ট সাইড ডেভেলপমেন্টও বলা হয়। Front-end ডেভেলপাররা মূলত কোনো ওয়েবসাইটের ফ্রন্ট বেসিস নিয়ে কাজ করে। বিভিন্ন ওয়েব টেকনোলজিকে মানসম্মত করতে তারা কাজ করে। এক্ষেত্রে HTML, CSS, DOM, Javascript সহ বিভিন্ন ফ্রেমওয়ার্ক – Bootstrap, ReactJs, AngularJs বিষয়ে দক্ষ হওয়া প্রয়োজন।

৫. Back-end Developer :

একজন Back-end ডেভেলপার মূলত বিভিন্ন ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন এর সার্ভার রিলেটেড লজিক ও ইন্টিগ্রেশন নিয়ে কাজ করে। অর্থাৎ কোনো অ্যাপ্লিকেশনের যে অংশটি ব্যবহারকারীর সামনে আনা হয় তা নিয়ে কাজ করে ফ্রন্ট -এন্ড ডেভেলপার আর ব্যাক -এন্ড ডেভেলপার এর মেইনটেন্যান্স ও সার্ভার -সাইড ডেভেলপের কাজ করে থাকে। এক্ষেত্রে ডেটাবেস(MongoDB, SQL, NoSQL ইত্যাদি), সার্ভার, API, Python, Java সহ front-end সাইড গুলির ধারণা থাকতে হবে।


৬. Full Stack Developer :

Front-end ও Back-end উভয়ক্ষেত্রেই যারা পারদর্শী তারা ফুল -স্ট্যাক ডেভেলপার। এই সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে তাই উভয় বিষয়েই দক্ষ হতে হবে।

৭. Desktop Developer :

বিভিন্ন ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশন, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, কনসোল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে কাজ করে ডেস্কটপ ডেভেলপার। প্রোগ্রামাররা এখানে এমন সব সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন সংক্রান্ত কোড লিখে থাকে যা বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমে (Windows, MacOS, Linux ) কাজ করে। অ্যাপ্লিকেশন এর স্পিড, গ্রহণযোগ্যতা, code -debug, testing এর কাজ করতে ডেস্কটপ ডেভেলপাররা Swift, C#, C/C++, Python, Ruby প্রভৃতি ল্যাঙ্গুয়েজ এক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকে।

৮. Game Developer :

এই সেক্টরের ডেভেলপারগণ গেম তৈরির কোড, ডিজাইন, কনসেপ্ট, ফিচারস নিয়ে কাজ করে থাকে। তারা বিভিন্ন ফিচারস ও কনসেপ্টকে মেকানিক্স, গ্রাফিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর সাথে সমন্বয় করে কাজ করে।

৯. Security Developer :

এই সেক্টরের ডেভেলপাররা সিস্টেমের নিরাপত্তা, মেথডস, প্রসিডিউর, চেকিং নিয়ে কাজ করে। তারা white hat এথিক্যাল হ্যাকার নামেও পরিচিত। এখানে স্কিলসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো – সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে ভালো ধারণা, C/C++, Python ইত্যাদি। এই বিষয়ে বর্তমানে বিভিন্ন ট্রেনিং চালু আছে যেমন – CISCO CCIE, CISSP, Microsoft Azure Security Associate সহ অনেক ট্রেনিং ও সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম যার মাধ্যমে নিজেকে একধাপ এগিয়ে রাখা সম্ভব।

১০. Data Scientist :

ডেটা সায়েন্টিস্ট মূলত কম্পিউটার সায়েন্স, স্ট্যাটিসটিক্স ও ম্যাথমেটিক্স এর মধ্যে সমন্বয় করে বিভিন্ন ডেটা নিয়ে কাজ করে। Computing, Data mining, analysis, data visualization, predictive modeling, machine learning, AI সহ বিভিন্ন কাজে ডেটা সায়েন্টিস্টরা পারদর্শী হয়ে থাকে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *